রমজানে মহান আল্লাহর বিশেষ পুরস্কার: আমল, ফজিলত ও দোয়া নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাইড
পবিত্র রমজান মাস কেবল উপবাসের নাম নয়, এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক অফুরন্ত নেয়ামতের ভাণ্ডার। এই মাসে ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আজ আমরা জানবো রোজা রাখলে আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাকে কী কী পুরস্কার দেবেন এবং এই মাসের সেরা কিছু আমল ও দোয়া সম্পর্কে।
১. রোজা রাখলে আল্লাহ পাক বান্দাকে যা দেবেন
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, "রোজা কেবল আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।" এছাড়াও রোজাদারদের জন্য থাকছে:
- রাইয়ান দরজা: জান্নাতে প্রবেশের জন্য রোজাদারদের জন্য বিশেষ একটি তোরণ।
- মুখের ঘ্রাণের মর্যাদা: রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশক আম্বরের চেয়েও বেশি প্রিয়।
- শাফায়াত: কিয়ামতের কঠিন দিনে রোজা বান্দার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে।
- গুনাহ থেকে মুক্তি: রমজানের এক একটি ইফতারের সময় অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
২. রমজানের বিশেষ ৩টি দোয়া (অবশ্যই শিখুন)
ক) রোজা রাখার নিয়ত:
নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রামাদানাল মুবারকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।
(অর্থ: হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমজান মাসের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করছি। আমার পক্ষ থেকে আপনি তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।)
খ) ইফতারের দোয়া:
আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
(অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই রোজা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করছি।)
গ) ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া (শবে কদরে বেশি পড়বেন):
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।
(অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।)
৩. সহজে কুরআন খতম করার একটি রুটিন
রমজানে অন্তত একবার কুরআন খতম করতে চাইলে এই সহজ চার্টটি অনুসরণ করতে পারেন:
- ফজর: ৪ পৃষ্ঠা
- যোহর: ৪ পৃষ্ঠা
- আসর: ৪ পৃষ্ঠা
- মাগরিব: ৪ পৃষ্ঠা
- এশা: ৪ পৃষ্ঠা (প্রতি ওয়াক্তে মাত্র ৪ পৃষ্ঠা পড়লে ৩০ দিনে আপনার ৩০ পারা কুরআন পড়া সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ।)
৪. রমজানে করণীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল
১. সেহরি খাওয়া: নবীজি (সা.) বলেছেন, সেহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে।
২. সময়মতো ইফতার: ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নাত।
৩. বেশি বেশি সদকা: এই মাসে দান-খয়রাতের সওয়াব অন্য মাইসের চেয়ে অনেক বেশি।
৪. জবান হেফাজত: মিথ্যা বলা, গিবত করা বা ঝগড়া থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
নবিজি কিসের তৈরি মাটি না-কি নুর দলিল দেখুন

Post a Comment